Posts

Showing posts from January, 2026

শব-ই-বরাত: রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির রাত — একটি গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Image
 লেখক: কবি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল সজিব পরিচিতি: সমসাময়িক চিন্তাবীদ, সাবেক সহকারী শিক্ষক (রসায়ন বিজ্ঞান) – ব্রিটানিকা উইমেন্স কলেজ, এম.হোসেন স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট ভূমিকা ইসলামী সমাজে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত, যাকে আমরা শব-ই-বরাত নামে জানি, এটি আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি বিশেষ রাত হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন সাহাবা ও সালাফগণ এই রাতে ইবাদতে অতিবাহিত করতেন। যদিও কুরআনে সরাসরি এই রাতের উল্লেখ নেই, হাদিস, ইতিহাস এবং তাসাউফী সাহিত্য থেকে আমরা এর গুরুত্ব বোঝতে পারি। কুরআনের প্রেক্ষাপট শব-ই-বরাতের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত উল্লেখ নেই, তবে অনেক mufassir এই রাতকে কিছু আয়াতের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। সূরা আদ-দুখান (44:4) আরবি: فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ অনুবাদ: “এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।” ব্যাখ্যা: তাফসিরে বলা হয়েছে, শাবানের মধ্যবর্তী রাতকে আল্লাহর পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ধারণের সময় হিসেবে দেখা যায়, যা মানুষের ভাগ্য ও রিযিকের সাথে সম্পর্কিত। (তাফসির ইবনে কাছীর, 3/98) হাদিসের আলোকে শব-ই-বরাত হাদিস ১: ক্ষমার রাত আরবি: ا...

শবে মেরাজ: নবিজী ﷺ–এর ঊর্ধ্বগমন ও উম্মতের জন্য আসমানি দান

Image
 শবে মেরাজ: নবিজী ﷺ–এর ঊর্ধ্বগমন ও উম্মতের জন্য আসমানি দান। ~কবি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল সজিব লে খক ও সমসাময়িক চিন্তাবীদ ______________________________________________ শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে শুধু একটি স্মরণীয় রাত নয়; এটি মূলত নবিজী হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর সঙ্গে তাঁর রবের সম্পর্কের এক গভীর প্রকাশ। দুঃখ, অবহেলা আর কষ্টে ভরা সময়ের মাঝেই আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে এমন এক সম্মানে ভূষিত করেন, যা মানুষের চিন্তার সীমাকেও অতিক্রম করে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এই ঘটনার সূচনা এভাবে করেছেন— “পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করালেন—যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি—তাঁকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখানোর জন্য।” (সূরা আল-ইসরা: ১) এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নবিজী ﷺ–কে ‘রাসূল’ বা ‘নবী’ না বলে ‘তাঁর বান্দা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদা হলো বান্দা হওয়া। সেই পরিপূর্ণ বান্দাকেই আল্লাহ আসমানের পথে আহ্বান করেছেন। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, শবে মেরাজের রাতে নবিজী ﷺ–এর বক্ষ বিদীর্ণ করে তা জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করা হয়। এরপর তাঁকে বো...

মানুষ বদলায়, সম্পর্কও বদলে যায়

Image
  কেউ কারো না —  জীবনের বাস্তবতা ~কবি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল সজিব  লেখক ও সমসাময়িক চিন্তাবীদ  কথাটা তিক্ত হলেও সত্য—এই পৃথিবীতে আসলে কেউ কারো না। মানুষ মানুষকে চিনে প্রয়োজনের সময়ে, আর ভুলে যায় যখন সেই প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই বাস্তবতা অনেক সময় আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়—নিজের আত্মীয়দের মধ্যে। আমরা সাধারণত ভাবি, রক্তের সম্পর্ক মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সহযোগিতা আর সহমর্মিতা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—সমান সম্পর্কের হয়েও আত্মীয়তার বন্ধন সব সময় সমান থাকে না। এক দিকে থাকে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা, নিয়মিত যোগাযোগ ও স্বার্থের হিসাব; আর অন্য দিকে একই সম্পর্ক হয়েও থাকে অবহেলা, দূরত্ব, এমনকি সম্পর্কহীনতার মতো নীরবতা। কিন্তু বাস্তব জীবনে বারবার দেখা যায়, আত্মীয়তার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে হিংসা, অহংকার আর সংকীর্ণ মানসিকতা। কেউ চায় না তার চেয়ে অন্য কেউ এগিয়ে যাক, সফল হোক, সম্মান পাক। বরং অনেক সময় দেখা যায়, নিজের মানুষ বলেই কারো উন্নতি সহ্য করতে পারে না তারা। আজকের সমাজে উন্নতি যেন এক ধরনের অপরাধ। আপনি যদি একটু ভালো করতে শুরু...

কবিতা : "নাম আছে, মানুষ নেই"

Image
"নাম আছে, মানুষ নেই" কবি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল সজিব  সমান রক্তে গাঁথা নাম, সমান পরিচয়ের রেখা, তবু সম্পর্কের ভুবনে পড়ে থাকে অদৃশ্য এক ফাঁকা। কোনো দিকেই প্রয়োজন নেই, নেই ডাক, নেই টান, তবু এক হৃদয় পাহারা দেয়—অকারণ আপনজন। অন্য হৃদয় নির্বিকার, খেয়ালহীন, নীরব, দিন যায়, মাস যায়—চেনা মুখও থাকে অনির্বচনীয় নিরব। খোঁজের দায় নেই তার, নেই অনুভবের ভার, সমান আত্মীয় হয়েও যেন—পথচলা দুই ধার। এক দিক স্মরণ রাখে নাম, সম্পর্ক, অতীত, অন্য দিক স্মৃতির খাতায় রাখে না কোনো ইঙ্গিত। এক দিক মানুষটাকে দেখে মানুষ হয়ে, অন্য দিক দেখে কেবল পরিচয়—ভুলে যায় হৃদয়কে। রক্তের সূত্রে কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতি শুধু অনুভবের খেয়ালে, যত্নের ছায়ায় নেই। কাগজে সমান আত্মীয়তা অটুট, বাস্তবে এক দিক জীবিত—অন্য দিক মৃত। এই সমাজে এমন সম্পর্ক বহু, যেখানে খেয়াল রাখে একাই—অন্যজন থাকে দূরু। কোনো বৈরিতা নেই, নেই অকারণ শত্রুতা, তবু খেয়ালহীনতাই গড়ে তোলে—সম্পর্কহীনতা। জীবন ছন্দে ছন্দে এগোয়, কবিতা রাখে সাক্ষ্য, যেখানে নীরব অবহেলায় ভেঙে যায় রক্তের ন্যায্যতা।